লিফ কালার চার্ট (এলসিসি) কি ?
[slider width=”100%” height=”100%” class=”” id=””]
[slide type=”image” link=”” linktarget=”_self” lightbox=”yes”]http://agrivisionbd.com/wp-content/uploads/2015/12/LCC.jpeg[/slide]
 লিফ কালার চার্ট (এলসিসি) হলো পাতার রঙ-এর একটি তালিকা। এ তালিকা দিয়ে ধানের পাতার সবুজ রঙ এর বিভিন্ন মাত্রার গাঢ়ত্ব বোঝা যায়। এ সব গাঢ়ত্ব বোঝার লক্ষ্যে প্লাস্টিকের তৈরি সবুজ রঙ-এর কয়েকটি বর্ণের একটি চার্ট ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সবুজ রঙ-এর মোট ছয়টি বর্ণে রয়েছে। এ ছয়টি বর্ণ পাতার যে ছয়টি সবুজ বর্ণ থাকে, তার বিভিন্ন অবস্থার গাঢ়ত্ব নির্দেশ করে থাকে। পাতার সবুজ রঙ-এর বিভিন্ন গাঢ়ত্ব  নির্ণয়ের জন্য ফ্রেমের ২ নং হলো হালকা সবুজ রঙ এবং ৫ নং হলো গাঢ় সবুজ। ফ্রেমের এ স্কেল ব্যবহার করে জমিতে ইউরিয়ার পরিমাণ নির্ণয় করা হয় এবং এর মাধ্যমে সঠিক সময়ে ও সঠিক পরিমাণে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা যেতে পারে।

জমিতে এলসিসি ব্যবহার :

ধান গাছের পাতার সবুজ রঙ- এর গাঢ়ত্ব প্রধানত নির্ভর করে জমিতে নাইট্রোজেন নামে পুষ্টি উপাদানের ওপর। গাছ যদি মাটি থেকে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন না পায় তাহলে ধান গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়।এ জন্যই জমিতে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। এলসিসি ফ্রেমের মাধ্যমে পাতার রঙ নির্ণয়  করে জমিতে চাহিদা  অনুযায়ী ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হলে জমিতে সঠিক ভাবে সারের প্রোয়োগ হয়ে থাকে। অন্যদিকে জমিতে অধিক সারের বিরূপ প্রভাবের ফলে ফসলের ক্ষতি হয়। এছাড়া অধিক সার ব্যবহারের ফলে জমিতে পোকামাকড় ও রোগবালাই-এর আক্রমণ বেশি হয়। তাছাড়া  প্রয়োজনের তুলনায় জামিতে সার প্রয়োগ করা হলে ধানের ফলনও কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে জমিতে ব্যবহৃত ইউরিয়া সারের সর্ব্বোচ্চ শতকরা ৩০-৩৫ ভাগ পযর্ন্ত কাজে লাগে। এছাড়া ইউরিয়া বাকি অংশ গ্যাস হয়ে বাতাসে চলে যায়। তাই প্রয়োজন ও  সময়মত সঠিক পরিমানে সার না করা হলে তা ফসলের খুব একটা বেশি  কাজে আসে না বরং এতে অর্থের অপচয় হয়। হিসেবে দেখা গেছে, এলসিসি ব্যবহার করে জমিতে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হলে এ অপচয় কমিয়ে অধিক লাভবান হওয়া যায়।

এলসিসি ব্যবহারের উপকারিতা :

  • ধানের  জমিতে এলসিসি ব্যবহারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হলে যে সব উপকার হয় তা হলোঃ
  • ধানের ফলন ঠিক রেখে হিসেবে দেখা গেছে , রোপা আমন ধানে শতকরা ২৫ ভাগ এবং বোরো ধানে শতকরা ২৩ ভাগ ইউরিয়া কম লাগে।
  • সর্বোপরি এলসিসি ব্যবহার করা হলে জমিতে পোকামাড় ও রোগবালাই-এর উপদ্রব কম হয়।
  • রোপা আমন ধানের গড় ফলন শতকরা ৬ ভাগ এবং বোরো ধানের গড় ফলন বাড় শতকরা ৭ ভাগ।

এছাড়া এর ফলে ধানের উৎপাদন খরচ কমে এবং আয় বাড়ে।

এলসিসি ব্যবহারের নির্দেশিকা :

এলসিসি ধানের জমিতে যেভাবে ব্যবহার করতে হয় তা হলোঃ

  • বোরো মৌসুমে ধান রোপনের ২১ দিন ও রোপা আমনের রোপনের ১৫ দিন পর থেকে থোড় অবস্থা পযর্ন্ত ১০ দিন পর পর এলসিসি দিয়ে পাতার রঙ মেপে নিতে হবে।
  • আমন মৌসুমে গজানো বীজ বপনের ১৫ দিন ও বোরেতে ২৫ দিন পর থেকে থোড় অবস্থা পযর্ন্ত ১০ দিন পর পর এলসিসি দিয়ে পাতার রঙ মেপে নিতে হবে।
  • প্রতিবার রঙ মাপার সময় জমির বিভিন্ন জায়গা থেকে ১০ টি সুস্থ- সবল গোছা/গাছ বেছে নিতে হবে।
  • পরে এভাবে বেছে নেয়া গোছার /গাছের সবচেয়ে উপরের সম্পুর্ণ বের হওয়া পাতাটির মাঝের অংশ এলসিসি উপর রাখতে হবে এবং পর পাতার রঙ মিলাতে  হবে। পাতার রঙ এলসিসির যে রঙের সাথে মিলবে সে পাতার এলসিসি মান হবে।
  • পাতার রঙ এলসিসির দুটি পাশাপাশি রঙের মাঝামাঝি মিললে ঐ দুটি গড় হবে এলসিসি মান।
  • ১০ টি এলসিসি  পরিমাপক মানের ৬ টি  বা তার বেশি রোপা ধানে ৩.৫ এবং বোনা ধানে ৩.০ এর কম প্রতি ৩৩ শতাংশ আমনে ৭.৫ কেজি ও বোরোতে ৯ কেজি হিসেবে জমিতে ইউরিয়া সার দিতে হবে।
  •  সূযের্র আলোকে শরীরের ছায়ায় ঘিরে রেখে এলসিসি দিয়ে পাতার  রঙ মাপা প্রয়োজন। কারণ সূর্যের আলো পাতার রঙ নির্ণয়ে বাধার সৃষ্টি করে।
  •  সূর্যের কারণে এজন্য সকাল ৯-১১টা বা বিকাল ২-৪ টার মধ্যে এলসিসি মান নির্ণয় করা ভাল।

এলসিসি ব্যবহারের জন্য কৃষকভাইদের করণীয় :

  • আমন বা বোরো মৌসুমে জমির মাঝখাসে আইল দিয়ে সমান দু’ভাগে ভাগ করতে হবে।
  • পরে এ দুইভাগের একভাগ ইউরিয়াসহ অন্যান্য সব সার নিজের মত করে ব্যবহার করতে হবে।
  • জমির অন্যভাগে ইউরিয়া সার বাদে অন্যান্য সব সার নিজের মত করে প্রয়োগ করতে হবে এবং পরে এর সাথে এলসিসি ব্যবহারের মাধ্যমে এভাগে ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হবে।
  • এরপরে ফসল উৎপাদন হলে জমির দু’খন্ডের কোন অংশে কি পরিমাণইউরিয়া সার লেগেছে এবং কোন অংশে ফলন বেড়েছে তার একটি তুলনামূলক হিসেব করতে হবে।
  • সবশেষে এলসিসি দিয়ে হিসেব করে সার দেয়া প্লটে রোগ বা পোকামাড়ের আক্রমণ কম বেশি হয় কি না তাও যাচাই করা সম্ভব হবে।

নিজের জমিতে নিজে ব্যবহার করে এলসিসি-এর কার্যকারিতা কৃষক ভাইয়েরা নিজেরাই যাচাই করতে পারেন।

আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

তথ্যসূত্রঃ http://www.jeeon.com.bd/ এবং রাইস নলেজ ব্যাংক, ব্রি, গাজীপুর।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : জুলাই ১৮, ২০১৬