সেচ প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

উচ্চ ফলনশীল ভুট্রার আশানুরুপ ফলন পেতে হলে রবি মৌসুমে সেচ প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। উদ্ভাবিত জাতে নিম্নরুপ ৩-৪ টি সেচ দেয়া যায়-

প্রথম সেচঃ বীজ বপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে (৪-৬ পাতা)।

দ্বিতীয় সেচঃ বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে (৮-১২ পাতা)।

তৃতীয় সেচঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিনের মধ্যে (মোচা বের হওয়া পর্যায়)।

চতুর্থ সেচঃ বীজ বপনের ৮৫-৮৯ দিনের মধ্যে (দানা বাঁধার পূর্ব পর্যায়)।

ভুট্রার ফুল ফোটা ও দানা বাধার সময় কোনক্রমেই যাতে জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বিনা চাষ এবং উপযুক্ত সেচের মাধ্যমে হাইব্রিড ভুট্রা উৎপাদনঃ

মাঝারী উঁচু ও মাঝারী নিচু জমি এ পদ্ধতিতে ভুট্রা চাষের জন্য উপযুক্ত। তবে সেচের পরিমাণ বেশী লাগে। এ পদ্ধতিতে ৬ টি সেচের প্রয়োজন হয়। সেচের খরচ বেশী হলেও চাষের খরচ না থাকায় লাভজনক।

বীজ বপনের সময়ঃ মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রাহয়ন। এ পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ভুট্রা ৫ চাষ করলে ভাল হয়।

সার প্রয়োগঃ

পচা গোবরঃ ২৪ কেজি, ইউরিয়াঃ ২.২০ কেজি, টিএসপিঃ ৮১০ কেজি, পটাশঃ ১.১১, জিপসামঃ ৯০০ গ্রাম, দস্তাঃ ৬০ গ্রাম, বোরণঃ ৫০ গ্রাম প্রয়োজন

প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

ইউরিয়ার তিন ভাগের এক ভাগ এবং অন্যান্য সকল সার জমির শেষ চাষের সময় মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকী ইউরিয়া দুইভাগে বপনের ৩০ ও ৬০ দিন পর ভুট্রার সারির পাশে প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ প্রয়োগঃ বীজ বপনের ২য় সপ্তাহ থেকে ফাল্গুনের ২য় সপ্তাহ।

ফলনঃ বিঘা প্রতি ৩৩-৪০ মণ।

খরচঃ বিঘা প্রতি ৫৩৩৩/- টাকা এবং আয় ১৩৩৩৩/- টাকা এবং নীট লাভ ৮০০০/- টাকা।

তথ্যসূত্রঃ কৃষি প্রযুক্তি হাত বই (ষষ্ঠ সংস্করণ), বারি, গাজীপুর

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২১