বিএআরসি প্রকাশিত ‘ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন গাইড-২০১২ ও বিএসআরআই-এর গবেষণালব্ধ ‘এইজেড’ ভিত্তিতে অনুমোদিত সারের মাত্রা এখানে উল্লেখ করা হলঃ  (শতাংশ প্রতি সারের মাত্রা)

চিনিকল অঞ্চলের নাম এইজেড নম্বর ও জেলার নাম সারের পরিমাণ
ইউরিয়া টিএসপি পটাশ জিপসাম ম্যাগ. দস্তা বোরণ
সেতাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও এইজেড-১ঃ পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর ১.০৯ কেজি ০.৭১ কেজি  ০.৮১ কেজি ০.৫৭ কেজি ০.২০ কেজি ৩০ গ্রাম  ৮০ গ্রাম
রংপুর, শ্যামপুর ও জয়পুরহাট এইজেড-৩ঃ রংপুর, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ১.৩১ কেজি ১.০১ কেজি ১.০৫ কেজি ০.৬৭ কেজি  ০.১০ কেজি  ৩০ গ্রাম  –
জিলবাংলা, কালিয়াচাপরা এইজেড-৮ঃ শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী ১.৩১ কেজি  ০.৮১ কেজি  ০.৮১ কেজি ০.৬৭ কেজি  – ৩০ গ্রাম
জিলবাংলা, কালিয়াচাপরা এইজেড-৯ঃ শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী ১.৩১ কেজি  ১.০১ কেজি  ১.০৫ কেজি  ০.৫৭ কেজি  ৩০ গ্রাম  –
নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, কেরু এন্ড কোং, মোবারকগঞ্জ, ফরিদপুর এইজেড-১১ঃ রাজশাহী, পাবনা, নবাবগঞ্জ, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুড়া, যশোর, সাতক্ষিরা, খুলনা, নড়াইল ১.৩১ কেজি  ১.০১ কেজি ০.৭৩ কেজি ০.৭৭ কেজি  ৪০ গ্রাম
কুষ্টিয়া, নাটোর এইজেড-১২ঃ পাবনা, নাটোর, গোয়ালন্দ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, শরিয়তপুর, খুলনা, নড়াইল, বাগেরহাট, বরিশাল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা ১.২১ কেজি ০.৭৩ কেজি ০.৫৩ কেজি  ০.৭৯ কেজি  ৪০ গ্রাম
সেতাবগঞ্জ ও জয়পুরহাট এইজেড-২৫ঃ বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, দিনাজপুর ১.২১ কেজি ০.৮৯ কেজি ১.০৫ কেজি ০.৬৭ কেজি ০.১৩ কেজি ৩০ গ্রাম  –
রাজশাহী ও জয়পুরহাট এইজেড-২৬ঃ রাজশাহী, নওগাঁ, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর ১.০৯ কেজি  ০.৮৯ কেজি ০.৮১ কেজি  ০.৬৭ কেজি  ০.১৩ কেজি  ৩০ গ্রাম
জয়পুরহাট, রংপুর, সেতাবগঞ্জ এইজেড-২৭ঃ বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর  ১.০৯ কেজি ০.৮৯ কেজি  ০.৮১ কেজি  ০.৫৭ কেজি  ০.১৩ কেজি  ৩০ গ্রাম  –
কালিয়াচাপরা এইজেড-২৮ঃ টাঙ্গাইল, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী   ১.০৯ কেজি  ০.৮৯ কেজি  ০.৮১ কেজি  ০.৬৭ কেজি   ০.১৩ কেজি  ৩০ গ্রাম
এইজেড-২৯ঃ খাগড়াছড়ি, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, শেরপুর, ময়মনসিংহ  ০.৯৭ কেজি  ০.৬১ কেজি ০.৭৩ কেজি  ০.৪৪ কেজি   ০.১৩ কেজি ৩০ গ্রাম
এইজেড-৩০ঃ ব্রাহ্মনবাড়ীয়া, হবিগঞ্জ  ০.৯৭ কেজি  ০.৬১ কেজি ০.৬৫ কেজি ০.৪৪ কেজি   ০.১৩ কেজি  ৩০ গ্রাম

– টেবিলে প্রদত্ত সারের মাত্রা এলাকা ও মৃত্তিকার ভিন্নতার কারণে পরিবর্তন হতে পারে।অধিকতর তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন

প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

বেলে মাটির জন্যঃ
আখ রোপণের পূর্বে সম্পূর্ণ ফসফেট, জিপসাম, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ সার প্রয়োগ করে কোদাল দ্বারা হালকাভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও অর্ধেক পটাশ সার আখের কুশি উৎপাদন সময়ে অর্থাৎ ১২০-১৫০ দিনের মধ্যে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া প্রথম উপরি প্রয়োগের এক মাস পরেই দ্বিতীয় দফায় উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

এঁটেল মাটি ও রোপা আখের জন্যঃ
আখ রোপণের পুর্বে সম্পূর্ণ ফসফেট, জিপসাম, জিঙ্ক ও ম্যাগনেসিয়াম সার নালায় প্রয়োগ করে কোদাল দ্বারা হালকাভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া ও পটাশ সার চারা রোপণের পূর্বে না প্রয়োগ করে চারা রোপণের ২০-৩০ দিন পর অর্ধেক ইউরিয়া ও পটাশ সার চারার গোড়ায় স্থানীয়ভাবে প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকী অর্ধেক ইউরিয়া ও পটাশ সার ইক্ষূর কুশি উৎপাদন সময়ে (১২০-১৫০ দিনের মধ্যে) উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সার উপরি প্রয়োগের সময় জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকা আবশ্যক। সেচের ব্যবস্থা না থাকলে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। উপরি প্রয়োগের পরপরই সারগুলো মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
জৈব সার প্রয়োগ- জমির উর্বরতা ও আখের ফলনশীলতা সংরক্ষণের জন্য হেক্টর প্রতি ১২.৫ টন গোবর/প্রেসমাড অথবা ৫০০ কেজি খৈল জৈব সার হিসাবে রোপণের পূর্বেই নালায় প্রয়োগ করে ভালভাবে মাটির সংগে মিশিয়ে দিতে হবে। জৈব সারের কোন নির্দ্রিষ্ট প্রয়োগ মাত্রা নেই। ÿেতে যত বেশী জৈব সার প্রয়োগ করা যাবে, ফসলের অবস্থা তত বেশী ভাল হবে।

রেটুন ক্রপ করার জন্য নিম্নরুপ সার প্রয়োগ করতে হবে –

 সারের নাম সারের পরিমাণ  প্রয়োগের সময় প্রয়োগ পদ্ধতি
খৈল  ১.৮২ কেজি  মোথা ছাটার পর জমি তৈরী/কোপানোর সময়  মোথা ছাটার পর দু’সারি আখের মধ্যবর্তী জায়গায় ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
 ইউরিয়া  ১.৭২ কেজি

(১.৩১ কেজি+৪০০ গ্রাম)

 ১ম দফাঃ চারা গজানোর ১০/১৫ দিন পর;

২য় দফাঃ আখের গোড়ায় ১ম মাটি দেয়ার সময়

 আখের সারির গোড়াতে ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
 টিএসপি  ১.০ কেজি  মোথা ছাটার পর জমি তৈরী/কোপানোর সময় মোথা ছাটার পর দু’সারি আখের মধ্যবর্তী জায়গায় ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
পটাশ ৭৩০ গ্রাম

১ম দফাঃ চারা গজানোর ১০/১৫ দিন পর;

২য় দফাঃ আখের গোড়ায় ১ম মাটি দেয়ার সময়

আখের সারির গোড়াতে ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
জিপসাম ৭৭০ গ্রাম মোথা ছাটার পর জমি তৈরী/কোপানোর সময় মোথা ছাটার পর দু’সারি আখের মধ্যবর্তী জায়গায় ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
দস্তা ৪০ গ্রাম মোথা ছাটার পর জমি তৈরী/কোপানোর সময় মোথা ছাটার পর দু’সারি আখের মধ্যবর্তী জায়গায় ছিটিয়ে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।


তথ্যসূত্রঃ ইক্ষু প্রযুক্তি হ্যান্ড বুক, বিএসআরআই, ঈশ্বরদী, পাবনা

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২১