জমি নির্বাচন ও জমি তৈরিঃ

উঁচু ও মাঝারী উঁচু জমি, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাযুক্ত দো-আঁশ বা কাদা দো-আঁশ মাটি ও সমতল ভুমি নির্বাচন করতে হবে। যেখানে এক মাসের বেশি বৃষ্টির পানি বা বন্যার পানি জমে থাকে এমন নিচু জমি, বালি মাটি বা জলাবদ্ধ মাটি নির্বাচন করা যাবে না।

ইক্ষু চাষের জন্য ৮ ইঞ্চি গভীর করে জমি চাষ দিতে হবে। বেশি ভেজা বা বেশি শুকনো কোন জমিই জমি তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়।

বীজ নির্বাচন ও বীজ তৈরিঃ

ভাল অঙ্কুরোদগমক্ষমতা সম্পন্ন, সুস্থ-সবল, রোগ-পোকামুক্ত অনুমোদিত বীজ নির্বাচন করতে হবে।

ক) এক চোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড তৈরিঃ

অল্প বীজ  থেকে অধিক পরিমাণ চারা তৈরির জন্য এ পদ্ধতি ভাল। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন, রাইউনগান পদ্ধতিতে আখ চাষ এবং বাড চিপ পদ্ধতে আখ চাষের জন্য এ পদ্ধতিতে বীজ খন্ড তৈরি করা হয়।

খ) দুই চোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড তৈরিঃ

বেডে চারা উৎপাদন এবং স্টকলেস পদ্ধতিতে আখ চাষের জন্য এরকম বীজখন্ড তৈরি করা হয়।

গ) তিন চোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড তৈরিঃ

প্রচলিত পদ্ধতিতে আখ চাষের জন্য এরকম বীজখন্ড তৈরি করা হয়।

আখের রোপণ সময়ঃ

ক) আগাম রোপণঃ আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে রোপণ করলে অধিক অঙ্কুরোদগম, কুশি ও মাড়াইযোগ্য আখ বেশি উৎপাদিত হয়। ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাথী ফসল চাষের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে শতকরা ৩০-৫০ ভাগ ফলন বৃদ্ধি পায়।

খ) মধ্যম রোপণঃ অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে রোপা পদ্ধতিতে আখ চাষ উত্তম এবং

গ) নাবি রোপণঃ ফেব্রুয়ারী-এপ্রিলে রোপা পদ্ধতিতেও আখ চাষ করা যায়।

অংকুরোদগম বৃদ্ধির কয়েকটি উপায়ঃ

  • ইক্ষু বীজ বপনের পূর্বে পানিতে ডুবিয়ে রাখাঃ দুই বা তিন চোখবিশিষ্ট ইক্ষুবীজ বপনের পূর্বে ১২-২৪ ঘন্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
  • বীজ ইক্ষু বপনের পূর্বে শুকানোঃ বীজ ইক্ষু কাটার পর ৫-৭ দিন শুকাতে হবে। এরপর দুই বা তিন চোখবিশিষ্ট বীজ-খন্ড তৈরী করে মূল জমিতে বপন করতে হবে। সেচ সুবিধা আছে এমন জমির জন্য এ পদ্ধতি বেশী কার্যকর।
  • বীজ ইক্ষু বপনের পূর্বে শুকানো এবং পানিতে ডুবিয়ে রাখাঃ বীজ ইক্ষু কাটার পর (বপনের আগে) ৫-৭ দিন শুকাতে হবে। এরপর দুই বা তিন চোখবিশিষ্ট বীজ-খন্ড তৈরী করে ১২ ঘন্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে এরপর মূল জমিতে বপন করতে হবে। সেচ সুবিধা নেই এমন জমির জন্য এ পদ্ধতি বেশী কার্যকর।
  • বীজ ইক্ষু রোপণের আগে গরম পানিতে শোধন করাঃ দুই বা তিন চোখবিশিষ্ট বীজ-খন্ড তৈরী করে ৪০-৫২ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় ২৫-৩০ মিনিট শোধন করতে হবে। এরপর বীজখন্ডগুলো ঠান্ডা করে মূল জমিতে বপন করতে হবে।
  • বীজ বাছাই/বীজ নির্বাচনঃ রোগমুক্ত, সুস্থ সবল এবং পোকা-মাকড় মুক্ত ইক্ষু বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ইক্ষুর উপরের অর্ধেক তুলনামূলকভাবে নীচের অর্ধেকের চেয়ে বীজ হিসেবে ভাল।
  • জমি চাষঃ ভালভাবে জমি তৈরী করতে হবে এবং ভাল “জো” অবস্থায় বীজ বপন করতে হবে। বিশেষ করে বাতাসের তাপমাত্রা কম হলে, জমি ভালভাবে তৈরী করার দিকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে।
  • বীজ শোধনঃ বীজ বপনের আগে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক দ্বারা বীজ শোধন করে মূল জমিতে বপন করতে হবে।

ইক্ষু চাষের পদ্ধতিসমূহঃ

[accordian class=”” id=””]

[toggle title=”বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন” open=”no”]

সরাসরি বীজখণ্ড মাঠে বপন করে আখ উৎপাদন করার পদ্ধতিই প্রচলিত পদ্ধতি। সাধারণত তিন চোখবিশিষ্ট ইক্ষুবীজ ব্যবহারের মাধ্যমে এ পদ্ধতিতে ইক্ষু চাষ করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রায় ৩০-৪০% অংকুরোদগম হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরণের ফসল ধারা অনুসরণ করা হয়। যেমন-

  • পাট-ইক্ষু+মুড়ি ইক্ষু
  • পাট-ইক্ষু+সাথীফসল
  • পাট-মাটিকালাই-ইক্ষু
  • আউশ ধান-ইক্ষু+সাথী ফসল (গোল আলু/পেঁয়াজ/রসুন)-মুড়ি ইক্ষু
  • পাট-জোড়া সারি ইক্ষু+১ম সাথী ফসল (গোল আলু/পেঁয়াজ/রসুন/ডাল/সবজি)-২য় সাথী ফসল (মুগডাল/লালশাক/গীমা কলমী/সবুজ সার)-মুড়ি ইক্ষু+সাথী ফসল (সবুজ সার)

রোপণ সময়ঃ আগাম রোপণ করলে ফলন বেশি হয়, এক বা একাধিক সাথীফসল চাষ করা যায়। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত রোপণের উপযুক্ত সময়। এসময় মাটিতে পর্যাপ্ত রস থাকে, তাপমাত্রা সঠিক থাকে, অংকুরোদগম ভাল হয়, খরা সহনশীল হয়ে উঠে, অধিক কুশি গজায়, কম বীজ লাগে।

রোপণ দূরত্বঃ

ক) একসারি সনাতন পদ্ধতি :
আগাম রোপণ (শরৎ কাল : আগস্ট-সেপ্টেম্বর) : সারি থেকে সারি ১০০ সেমি × ২ চোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড ৩০ সেমি পরপর স্থাপন করতে হবে
মধ্যম রোপণ (হেমন্ত কাল: অক্টোবর- ডিসেম্বর) : ১০০ সেমি × ২/৩ চোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড মাথায় মাথায় স্থাপন করতে হবে।
নাবি রোপণ (বসন্ত কাল : ফেব্রুয়ারী-এপ্রিল) : ৭৫ সেমি × ৩ চোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড দেড়া পদ্ধতিতে স্থাপন করতে হবে।

খ) জোড়াসারি পদ্ধতি :

আগাম রোপণ (শরৎ কাল : আগস্ট-সেপ্টেম্বর) : (১৪০ সেমি + ৬০ সেমি) × ৩০ সেমি = ৩৩,৩৩৩ চারা/হে.

মধ্যম রোপণ (হেমন্ত কাল: অক্টোবর- ডিসেম্বর) : (১২০ সেমি + ৬০ সেমি) × ৩০ সেমি = ৩৭,০৩৭ চারা/হে.

নাবি রোপণ (বসন্ত কাল : ফেব্রুয়ারী -এপ্রিল) : (১০৫ সেমি + ৪৫ সেমি) × ৩০ সেমি = ৪৪,৪৪৫ চারা/হে.

এছাড়াও এঁটেল ও দো-আশ মাটির জন্য আগাম চাষ করলে সারি থেকে সারিঃ ৩.৫ ফুট এবং নাবী চাষ করলে সারি থেকে সারিঃ ৩ ফুট।

বেলে/বেলে দোঁআশ মাটির জন্য আগাম চাষ করলে সারি থেকে সারিঃ ৩ ফুট এবং নাবী চাষ করলে সারি থেকে সারিঃ ২.৫ ফুট।

নালা তৈরিঃ নিম্নোক্তভাবে নালা তৈরি করা যায়-

  • ট্রাক্টর এবং ট্রেঞ্চারের সাহায্যে
  • পাওয়ার টিলার এবং ট্রেঞ্চারের সাহায্যে
  • কোদাল দিয়ে
  • গরুর সাহায্যে লাঙ্গল দিয়ে

নালার গভীরতা ৮-৯ ইঞ্চি হওয়া উচিত। ট্রেঞ্চারের সাহায্যে প্রস্তুতকৃত নালার আকৃতি ভি (V) সদৃশ। কোদালের সাহায্যে প্রস্তুতকৃত নালার গভীরতা ঠিক হলেও তাতে খরচ বেশি পড়ে তাই ট্রেঞ্চারের সাহায্যেই নালার ব্যবস্থা করা ভাল।

বীজের পরিমাণঃ প্রতি বিঘা জমি জন্য প্রয়োজন ২৩-২৬.৫ মণ।

নালায় বীজ স্থাপনঃ নালায় বীজ স্থাপনের ৪ টি পদ্ধতি রয়েছে-

  • মাথায় মাথায় বা চলমান একসারি পদ্ধতিঃ আগাম ইক্ষু চাষের ক্ষেত্রে যেখানে প্রচুর রস আছে অথচ উঁইয়ের উপদ্রব নাই সেখানে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য। এতে বিঘা প্রতি ১৯.৮ মণ বীজইক্ষু প্রয়োজন।
  • দেড়া বা এক খন্ডের মাঝে আরেক খন্ড স্থাপন পদ্ধতিঃ বেলে মাটিতে মধ্যম বা নাবী ইক্ষু চাষের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য। এতে বিঘা প্রতি ২৬.৪-২৯.৭ মণ বীজইক্ষু প্রয়োজন।
  • দুই সারি পদ্ধতিঃ বেলে মাটিতে বা নাবী ইক্ষু চাষের ক্ষেত্রে যখন রসের পরিমাণ খুবই কম কিংবা উঁইয়ের উপদ্রব আছে সেখানে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য। এতে বিঘা প্রতি ৩৩-৩৯.৬ মণ বীজইক্ষু প্রয়োজন।
  • আঁকা-বাঁকা পদ্ধতিঃ উঁইয়ের উপদ্রব যেখানে বেশী আছে সেখানে এ পদ্ধতি প্রযোজ্য। এতে বিঘা প্রতি ৩৯.৬-৪৬.২ মণ বীজইক্ষু প্রয়োজন।

ফলনঃ বিঘা প্রতি মাড়াইযোগ্য আখের সংখ্যা ৫৯৪০-৭২৬০ টি।

[/toggle]
[/accordian]

[accordian class=”” id=””]

[toggle title=”বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন” open=”no”]

রোপা পদ্ধতি (STP) (Spaced Transplanting) পদ্ধতিতে আখ চাষ প্রচলিত পদ্ধতি থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন। এ পদ্ধতিতে রোপা ধানের মত বিভিন্ন পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে সেই চারা মূল জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণ করা হয়। সরাসরি বীজখণ্ড মাঠে বপনের পরিবর্তে চারা উৎপাদন করে রোপণ করায় চারাগুলির মধ্যে সুনির্দিষ্ট ও সমান দূরত্ব বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাড়াইযোগ্য আখ উৎপাদনের মাধ্যমে ইক্ষুর ফলন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা রোপা পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য।

বীজের পরিমাণঃ প্রতি বিঘা জমি জন্য প্রয়োজন ৬.৫ মণ।

চারা উৎপাদনঃ 

ক) বীজতলায় চারা উৎপাদনঃ এটি রোপা আখ চাষের সব চেয়ে সহজ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে দুই চোখবিশিষ্ট খন্ড তৈরি করে বীজতলায় রেখে চারা উৎপন্ন করা হয়।মধ্য জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর (শ্রাবন-ভাদ্র) পর্যন্ত বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়। 

  • রোপণকালে জমিতে পর্যাপ্ত রস বা সেচের সুবিধা থাকলে আখ আবাদের জন্য বীজতলায় চারা উৎপাদন করা যেতে পারে।
  • রোদযুক্ত উর্বরস্থানে ৪ ফুট প্রস্থ ও ৬ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট সুবিধাজনক দৈর্ঘ্যে বীজতলা তৈরী করতে হবে।
  • মোটামুটি ২৪ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৪ ফুট প্রস্থের প্রতিটি বীজতলায় ২ মণ পচা গোবর/কম্পোস্ট/প্রেসমাড সার, ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৫০০ গ্রাম টিএসপি ও ২৫০ গ্রাম পটাশ সার প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এ মাপের ১০ টি বীজতলার চারা দিয়ে এক হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা যায় (এক একরের জন্য দরকার ৪ টি বীজতলা)।
  • অনুমোদিত জাতের সুস্থ ও সবল বীজআখ দুই চোখবিশিষ্ট খন্ড করে তা ছত্রাকনাশক ব্যাভিস্টিন (প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে) দিয়ে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে শোধন করে নিতে হবে।
  • বীজখন্ডগুলো বীজতলায় এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে চোখগুলো পাশাপাশি থাকে এবং বীজখন্ডের মাঝে ১ সেমি. (০.৪ ইঞ্চি) পরিমাণ ফাঁকা থাকে।
  • বীজখন্ডগুলো মাটির সামান্য নীচে (১ সেমি) রেখে খড় দিয়ে হালকা ভাবে ঢেকে দিতে হবে। মাঝে মাঝে হালকা সেচ দিতে হবে।
  • বীজতলায় রোগাক্রান্ত কোন চারা দেখা গেলে আলাদা করে ধ্বংস করতে হবে এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • বীজতলায় ৪ হতে ৫ পাতা বিশিষ্ট হলে চারা জমিতে রোপণ করা যেতে পারে। মূলজমিতে ৬-৯ ইঞ্চি গভীর নালায় চারা লাগিয়ে তাতে ১.৫ ইঞ্চি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
  • চারা বেশী দিন বীজতলায় রাখতে হলে চারার পাতা ছেঁটে দিতে হবে।

খ) পলিব্যাগে চারা উৎপাদন :

রোপা আখচাষ পদ্ধতিসমূহের মধ্যে পলিব্যাগ চারা পদ্ধতিই সর্বোত্তম। এই পদ্ধতিতে পলিথিন বা চটের তৈরী ৪×৫ ইঞ্চি আকারের ব্যাগে মাটি ও গোবর মিশ্রণ ভর্তি করে তাতে এক চোখবিশিষ্ট বীজখন্ড স্থাপন করে চারা উৎপাদন করা হয়। সেচের সুবিধা নেই এমন বৃষ্টি নির্ভর অবস্থায়ও এ পদ্ধতিতে রোপা আখের চাষ করা যায়। 

  • সুস্থ সবল আখ থেকে ধারালো হাসুয়া/দা দ্বারা আড়াই ইঞ্চি (৬.০-৬.৫ সেমি.) মাপের এক চোখ বিশিষ্ট বীজখন্ড এমনভাবে কাটতে হবে যেন চোখের উপরে এক ইঞ্চি (২.৫৪ সেমি.) এবং নীচে ২ ইঞ্চি (৫.০ সেমি.) থাকে। এরপর বীজখন্ডগুলোকে ছত্রাকনাশক ব্যাভিস্টিন (প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে) ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে শোধন করে নিতে হবে।
  • আখ কাটার সময় রোগাক্রান্ত বীজখন্ড পাওয়া গেলে ঐ বীজখন্ডটি বাদ দিতে হবে এবং অন্য আখা কাটার পূর্বে দা/হাসুয়া আগুনে ঝলসিয়ে নিতে হবে।
  • সমপরিমাণ মাটি ও গোবর/আবর্জনা পঁচা সার ৫ ইঞ্চি × ৪ ইঞ্চি (১৩.০ × ১০.০ সেমি.) মাপের পলিব্যাগের অর্ধেক ভরে দিতে হবে।
  • বীজখন্ড ব্যাগে এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যেন এর মাথা ব্যাগের উপরিভাগ হতে অর্ধ ইঞ্চি (১.৩ সেমি.) নীচে থাকে।
  • ব্যাগের খালি জায়গাটুকু গোবর মিশ্রিত মাটি দিয়ে ভরে দিতে হবে।
  • ব্যাগের তলায় দুটি ছিদ্র রাখতে হবে যেন বৃষ্টি বা সেচের অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যেতে পারে।
  • ব্যাগে বীজখন্ড স্থাপনের পর ব্যাগগুলো রোদযুক্ত স্থানে রেখে খড় দিয়ে হালকাভাবে ঢেকে দিতে হবে।
  • ব্যাগের মাটিতে পরিমিত রস রাখার জন্য ঝাঝরি দিয়ে প্রয়োজনমত পানি দিতে হবে। পাতা বেশি বেড়ে গেলে কেটে ছোট করে দিতে হবে। রোগ-পোকার আক্রমণ দেখা গেলে ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • এক বিঘা জমির জন্য ১২০০০ টি চারা উৎপাদন করতে হবে। বিঘা প্রতি ০.০২ মিমি. পুরুত্বের ৪-৫ ইঞ্চি আকারের ৮ কেজি পলিথিন ব্যাগের প্রয়োজন হবে (প্রতি কেজিতে ১৫০০ টি পলিথিন হিসেব করে।
  • মূল জমি তৈরি হলে ৬-৯ ইঞ্চি গভীর নালায় চারা লাগিয়ে তাতে ১.৫ ইঞ্চি মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পলিব্যাগ খুব সাবধানে কেটে ফেলতে হবে।

গ) গাছ চারা (Rayungun) উৎপাদন :

এ পদ্ধতিতে জমিতে দন্ডায়মান আখেই চারা উৎপাদন করা হয়। মূল জমিতে চারা রোপণের প্রায় ৩০-৪৫ দিন পূর্বে নির্বাচিত বীজ ক্ষেতে আখের মাথা কেটে দিতে হবে। এর ফলে পার্শ্বকুশী গজাবে। পার্শ্বকুশী যাতে খুব লম্বা না হয় তার জন্য মাঝে মাঝে পাতা ছেটে দিতে হবে। এ সমস্ত পার্শ্বকুশী আখের সাথে সংযুক্ত স্থানে আলাদা আলাদা করে কেটে স্টকসহ বা স্টকলেস অবস্থায় প্রয়োজনীয় হরমোনে শোধন করে মূল জমিতে রোপণ করা হয়। জমিতে রোপণ করেই জীবনী সেচ প্রদান করতে হবে।

ঘ) বাডচিপ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন:

চারা উৎপাদনে বীজ খরচ কমাবার জন্য এটিও একটি সহজ পদ্ধতি। এক্ষেত্রে আখ কাটার পূর্ব মুহুর্তে দন্ডায়মান ইক্ষু থেকে কিংবা মিলে দেয়ার পূর্বে আখ থেকে শুধুমাত্র চোখগুলো তুলে নিয়ে আগের মতই পলিথিনে ভরে চারা উৎপাদন করা যায়। একটি মজবুত কাঠের উপর রেখে চোখ গুলি পাশে রেখে ১ চোখ বিশিষ্ট বীজ খন্ড তৈরী করতে হবে। চারা ৪০-৬০ দিনের হলে (৪-৬ পাতা বিশিষ্ট) মূল জমিতে রোপণ করা হয়। জমিতে রোপণ করেই জীবনী সেচ প্রদান করতে হবে।

ঙ) স্টকলেস পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনঃ

এ পদ্ধতিতে বীজতলায় অথবা গাছে উৎপাদিত চারা ৪০-৪৫ দিন বয়সে স্টক (মার্তৃকান্ড) থেকে আলাদা এবং পাতা ছাটাই করে মূল জমিতে রোপণ করা হয়। স্টকলেস চারায় দ্রুত শিকড় গজানোর জন্য শিকড়ের দিক ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি গ্রাম নেফথলিন এসিটিক এসিডে ৪৮-৭২ ঘন্টা ডুবিয়ে রেখে মূল জমিতে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের পর পরই একটি জীবনী সেচ প্রয়োগ করেতে হয়। এ পদ্ধতিতে রোপণকৃত চারার মৃত্যুহার তুলনামূলক কম। চারা বহন অত্যন্ত সহজ এবং দ্রুত মাঠে লেগে যায়।

চ) লেটারাল স্যুট :

এ পদ্ধতিতেও গাছ চারার ন্যায় জমিতে দন্ডায়মান আখ গাছেই চারা উৎপন্ন করা হয় তবে একই চারা বার বার কেটে একটি বাড (Bud) থেকে অনেকগুলো চারা উৎপাদন করা হয়। মূল জমিতে চারা রোপণের প্রায় ৪৫-৬০ দিন নির্বাচিত বীজ ক্ষেতে আখের মাথা কেটে দিতে হবে। এর ফলে পার্শ্বকুশী গজাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে গজানো পার্শ্বকুশী ১০-১২ দিন পরে আবার কেটে দিতে হবে। এভাবে মূল জমিতে চারা রোপণের ১ মাস আগ পর্যন্ত কয়েকবার গজানো পার্শ্ব কুশি কেটে কেটে একটি বাড থেকে অনেকগুলো চারা উৎপাদন করতে হবে। এ সমস্ত পার্শ্বকুশী আখের সাথে সংযুক্ত স্থানে আলাদা আলাদা করে কেটে স্টকলেস অবস্থায় মূল জমিতে রোপণ করা হয়।

ছ) টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা উৎপাদনঃ

এ পদ্ধতিতে আখের মেরিস্টেম টিস্যু থেকে ল্যাবরেটরির বিশেষ পরিবেশে চারা উৎপাদন করা হয়। কৃষক পর্যায়ে এ পদ্ধতিতে উৎপাদন করা সম্ভব নয়।

চারা রোপণ দূরত্বঃ

একসারি রোপা পদ্ধতি :

আগাম রোপণ (শরৎ কাল : আগস্ট-সেপ্টেম্বর) : সারি থেকে সারি ১০০ সেমি × ৬০ সেমি = ১৬,৬৬৭ টি চারা/হে.

মধ্যম রোপণ (হেমন্ত কাল: অক্টোবর- ডিসেম্বর) : ১০০ সেমি × ৪৫ সেমি = ২২,২২৩ টি চারা/হে.

নাবি রোপণ (বসন্ত কাল : ফেব্রুয়ারী-এপ্রিল) : ৭৫ সেমি × ৩০ সেমি = ৪৪,৪৪৫ টি চারা/হে.

জোড়াসারি পদ্ধতি :

আগাম রোপণ (শরৎ কাল : আগস্ট-সেপ্টেম্বর) : (১৪০ সেমি + ৬০ সেমি) × ৩০ সেমি = ৩৩,৩৩৩ চারা/হে.

মধ্যম রোপণ (হেমন্ত কাল: অক্টোবর- ডিসেম্বর) : (১২০ সেমি + ৬০ সেমি) × ৩০ সেমি = ৩৭,০৩৭ চারা/হে.

নাবি রোপণ (বসন্ত কাল : ফেব্রুয়ারী -এপ্রিল) : (১০৫ সেমি + ৪৫ সেমি) × ৩০ সেমি = ৪৪,৪৪৫ চারা/হে.

ফলনঃ বিঘা প্রতি মাড়াইযোগ্য আখের সংখ্যা ১৪৮৫০-১৬৫০০ টি।

[/toggle]
[/accordian]

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশে ইক্ষু উৎপাদন প্রযুক্তিঃ একটি হ্যান্ডবুক এবং ইক্ষু প্রযুক্তি হ্যান্ড বুক, বিএসআরআই, ঈশ্বরদী, পাবনা

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২১