রোগের লক্ষণঃ

অ্যানথ্রাকনোজ আমের একটি মহাক্ষতিকর রোগ। Colletotrichum gloeosporioides নামক ছত্রাক জীবাণু দ্বারা এ রোগ হয়। এ রোগের আক্রমণে প্রায় ২.০ থেকে ৩৯ শতাংশ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ দেশে সব এলাকার আমগাছেই এ রোগ দেখা যায়। আমগাছের সব অংশই এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়। প্রথমে পাতায় বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন আকৃতির ছোট ছোট ধূসর বাদামি বা কালো কালো দাগ পড়ে। দাগ পরবর্তীতে বড় হয়। কখনো কখনো দাগের মাঝখানটা ছিঁড়ে বা ফেটে যায়। দাগ শুকনো থাকে বলে এ রোগকে শুকনো ক্ষত রোগও বলা হয়। অধিক আক্রান্ত পাতায় লক্ষণ দেখতে ফোস্কা মতো দেখায়। এ জন্য এর আর এক নাম ফোস্কা রোগ। নার্সারিতে এ রোগের আক্রমণে চারাগাছের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। বয়স্ক পাতার চেয়ে কচি পাতা বেশি আক্রান্ত হয়। অনেক সময় চারার মাথা এ রোগের আক্রমণে মরে শুকিয়ে যায়। লক্ষণ একইভাবে পাতার বোঁটা, মুকুলের ডাঁটা ও ফলের খোসাতেও দাগ পড়ে। তবে এ রোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মুকুল। আক্রান্ত মুকুল নষ্ট হয় ও শুকিয়ে ঝরে পড়ে। সেসব মুকুলে কোনো গুটি হয় না বা খুব কম হয়। গুটি অবস্থায় ফলের গায়ে ছোট ছোট কালো দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত গুটিআম ঝরে পড়ে। বড় আম আক্রান্ত হলে দাগের স্থানে ত সৃষ্টি হয় ও অনেক সময় তা ফেটে যায়। এ রোগে সম্পূর্ণ আমটাই পচে যেতে পারে। মুকুল ধরা অবস্থায় বৃষ্টি হলে ও কুয়াশা বেশি পড়লে এ রোগ বাড়ে। মাটিতে পড়ে থাকা রোগাক্রান্ত পাতা, মুকুল ও গুটিআম এ রোগের প্রাথমিক উৎস। গাছে থাকা আক্রান্ত পাতা, মুকুলের ডাঁটি ইত্যাদিও রোগের উৎস।

রোগ দেখা দেয়ার পূর্বে করণীয়ঃ 

  • সময়মত প্রুনিং করে গাছ ও বাগান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা;
  • রোগাক্রান্ত ডালপালা কেটে সেখানে বোর্দপেস্ট লাগাতে হবে;
  • গাছ থেকে পরিণত আম পাড়ার পর হাতে সহ্য হয় এমন গরম পানিতে (৫১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) আমগুলো ১০ থেকে ১৫ মিনিট চুবিয়ে বাতাসে শুকিয়ে ঝুড়িতে ভরতে হবে।

রোগ দেখা দেয়ার পর করণীয়ঃ

  • গাছের নিচে ঝড়ে পড়া পাতা, মুকুল বা আমের গুটি অপসারণ করা;
  • এ রোগে আক্রান্ত অংশ কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে;
  • অনুমোদিত রোগনাশক প্রয়োগ করা –
গ্রুপের নাম বানিজ্যিক কীটনাশকের কতিপয় নমূনা বিষক্রিয়ার মেয়াদ ও ক্রিয়ার ধরণ
প্রোপিকোনাজল [accordian class=”” id=””]
[toggle title=”বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন” open=”no”]গাছে মুকুল আসার পর মুকুল ৫ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা হলে অর্থাৎ আমের ফুল ফোটার আগেই সিনজেন্টা কোম্পানীর টিল্ট ২৫০ ইসি @ ০.৫ মিলি/লি. পানি; অথবা এসিআই কোম্পানীর প্রাউড ২৫ ইসি @ ১ মিলি/লি. পানি; ইনতেফা কোম্পানীর শাদীদ @ ০.৫ মিলি/লি. পানি; স্কয়ারের পোটেন্ট ২৫০ ইসি @ ০.৫ মিলি/লি. পানিতে ছত্রাকনাশকের যেকোনো একটি ভালোভাবে মিশিয়ে মুকুলে স্প্রে করতে হবে[/toggle]
[/accordian]
কার্বেন্ডাজিম [accordian class=”” id=””]
[toggle title=”বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন” open=”no”]অটোক্রপ কেয়াররের ব্যাভিস্টিন ডি.এফ @ ১ গ্রাম/লি. পানি; অথবা  ইনতেফা কোম্পানীর আরবা ৫০ wp @ ২ গ্রাম/লি. পানি; অথবা এসিআই কোম্পানীর এমকোজিম ৫০ wp @ ১ গ্রাম/লি. পানি; অথবা স্কয়ারের গোল্ডাজিম ৫০০ ইসি @ ১ মিলি/লি. পানি পাতায় হলে ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার এবং ফল পাকার এক মাস আগে প্রয়োগ করতে হবে[/toggle]
[/accordian]
মেনকোজেব [accordian class=”” id=””]
[toggle title=”বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন” open=”no”]গাছে মুকুল আসার পর মুকুল ৫ থেকে ১০ সেন্টিমিটার লম্বা হলে অর্থাৎ আমের ফুল ফোটার আগেই অটোক্রপ কেয়াররের ইন্ডোফিল এম-৪৫ @ ২ মিলি/লি. পানি ছত্রাকনাশকের যেকোনো একটি ভালোভাবে মিশিয়ে মুকুলে স্প্রে করতে হবে[/toggle]
[/accordian]
হেক্সাকোনাজল [accordian class=”” id=””]
[toggle title=”বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন” open=”no”]অটোক্রপ কেয়াররের কনটাফ ৫ ইসি @ ২ মিলি/লি. পানি; অথবা এসিআই কোম্পানীর কনজা ৫ ইসি @ ২ মিলি/লি. পানি; অথবা  ইনতেফা কোম্পানীর শাবাব ৫ ইসি @ ১ মিলি/লি. পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার এবং আম পাকার এক মাস আগে প্রয়োগ করতে হবে[/toggle]
[/accordian]
ট্রাইসাইক‌োলাজল [accordian class=”” id=””]
[toggle title=”বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন” open=”no”]ইনত‌েফা ক‌োম্পানীর দ‌িফা ৭৫ wp @ ১.৩ গ্রাম/লি. পানিতে মিশিয়ে স্প‌্র‌ে করত‌ে হব‌ে[/toggle]
[/accordian]
কার্বেন্ডাজিম+ম্যানকোজেব [accordian class=”” id=””]
[toggle title=”বিস্তারিত দেখতে ক্লিক করুন” open=”no”]অটোক্রপ কেয়ার ক‌োম্পানীর কমপানিয়ন ৭৫ wp @ ২ গ্রাম/লি. পানিতে মিশিয়ে স্প‌্র‌ে করত‌ে হব‌ে[/toggle]
[/accordian]

বিঃ দ্রঃ

  • তাছাড়াও বায়ার কোম্পানীর ফেনামিডন গ্রুপের সিকিউর @ ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানি; অথবা মুকুল আসার পূর্বেই পাতায় এনার্জি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম হারে ১ম স্প্রে, মটর দানা হলে মুক্তি ১০ লিটার পানিতে ৩ মিলি হারে ২য় স্প্রে, মার্বেল আকার হলে নোভা ১০ লিটার পানিতে ১০ মিলি হারে ৩য় স্প্রে করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
  • এমনকি গাছ থেকে আম পাড়ার পর জুন-জুলাই মাসে ডাল-পাতায় একবার স্প্রে করেও সুফল পাওয়া যায়। প্রথমবার স্প্রে করার ১৫ থেকে ২০ দিন পর গুটি মার্বেল আকারের হলে একইভাবে আর একবার স্প্রে করতে হবে। এতে কচি আমে আক্রমণ প্রতিহত হয় এবং আম ঝরে পড়া কমে। কীটনাশকের সাথে এসব ছত্রাকনাশক মিশিয়ে একত্রে স্প্রে করা যেতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ http://www.agrobangla.com (মৃত্যুঞ্জয় রায়) এবং কৃষকের জানালা

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২১