পলিথিন ছাউনিঃ

ভরা বর্ষা মৌসুমে লাগানো চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পরবর্তী সময় ভাল ফলনের নিশ্চয়তার জন্য বেডে বা মিড়িতে নৌকার ছইয়ের আকৃতি করে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ছাউনি দিতে হবে। প্রায় ৫ হাত চওড়া (মাঝে ১ ফুট নালাসহ) দুটি মিড়িতে লম্বালম্বিভাবে ১ টি করে ছাউনির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ছাউনির উচ্চতা হবে দুপাশে ৪.৫ ফুট বা ১৩৫ সেমি ও মাঝখানে ৬ ফুট বা ১৮০ সেমি দুটি ছাউনির মাঝে অন্তত ২০ ইঞ্চি চওড়া নালা রাখতে হবে যাতে করে ছাউনি থেকে নির্গত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন পরিচর্যা করতে সুবিধা হয়। পলিথিন ছাউনি লম্বায় জমির আকার আকৃতির ওপর নির্ভর করে কমবেশি হতে পারে কিন্তু চওড়া (বাজারে প্রাপ্ত পলিথিনের সর্বোচ্চ চওড়া অনুযায়ী) ৫ হাত হওয়া বাঞ্চনীয়। ছাউনি ৪৬ হাত লম্বা হলে প্রতি বিঘায় এ ধরনের প্রায় ২৩ টি ছাউনি প্রয়োজন হতে পারে।

সেচ ও নিষ্কাশনঃ

চারা রোপণের ৩-৪ দিন পর পর্যন্ত হালকা সেচ ও পরবর্তীতে প্রতি কিস্তি সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য ঘন ঘন সেচের প্রয়োজন হয়। বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা সেচের প্রয়োজন হয় না। টমেটো গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারেনা। সেচ অথবা বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিমিত চওড়া ( ৩০-৪০ সেমি ) এবং এক দিকে মৃদু ঢালু হওয়া বাঞ্ছনীয়।

মালচিং:

প্রতিটি সেচের পরে মাটির উপরিভাগের চটা ভেঙে দিতে হবে যাতে মাটিতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।

আগাছা দমনঃ

টমেটোর জমি প্রয়োজনীয় নিড়ানী দিয়ে আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

হরমোন প্রয়োগঃ গ্রীষ্মকালীন টমেটোতে প্রচুর ফুল ধরলেও উচ্চ তাপমাত্রা ও অতিবৃষ্টির দরুন পরাগায়নে বিঘ্ন ঘটায় ফল ঝরে পড়ে। এ সময় কৃত্রিম হরমোন টম্যামটোটন ২৫ মিলি (৫ চা চামচ)/লিটার পানিতে মিশিয়ে ফুটন্ত ফুলে সকাল ৯.০০-১০.০০ টার দিকে স্প্রে করতে হবে।

বিশেষ পরিচর্যা: প্রথম ফুলের গোছার ঠিক নীচের কুশিটি ছাড়া সব পার্শ্ব কুশি ছাঁটাই করে দিতে হবে। গাছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দিতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ কৃষি প্রযুক্তি হাত বই (৬ষ্ঠ সংস্করণ), বারি, গাজীপুর

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২১