জলবায়ু ও মাটিঃ

অধিক শীত বা গরম নয় এমন আবহাওয়া লাউ চাষের জন্য উত্তম। তাই বাংলাদেশের শীতকালটা লাউ চাষের জন্য বেশি উপযোগী। লাউয়ের ভাল ফলনের জন্য সবচেয়ে অনুকুল তাপমাত্রা হলো দিনের বেলায় ২৫-২৮ ডিগ্রী সে: এবং রাতের বেলায় ১৮-২০ ডিগ্রী সে: মেঘলা আবহাওয়ায় লাউয়ের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোঁআশ বা এটেল দোঁআশ মাটি লাউ চাষের জন্য উত্তম।

বীজ বপনের সময়ঃ রবি মৌসুম (শীতকাল) : ভাদ্র-কার্তিক (আগস্ট-অক্টোবর) এবং খরিফ মৌসুম (গ্রীষ্মকাল) : জুন-জুলাই মাস

বীজ হার/চারার পরিমাণঃ  বিঘায় ১০৫-১৩০ গ্রাম অথবা প্রতি শতকে ৪ গ্রাম বীজ অথবা ১৫০ টি চারা প্রয়োজন হয়।

চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা তৈরিঃ

লাউ চারা বেডে বা পলিব্যাগে উৎপাদন করে নেয়া যায়। এজন্য আলো বাতাস স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় এমন জায়গায় ৮-১০ ইঞ্চি উঁচু বেড করে নিতে হবে। বেডের উপর ১৩ ফুট x ১৭ ফুট আকৃতির ছাউনি তৈরি করা যেতে পারে । ছাউনির কিনারা বরাবর মাটি হতে ঘরের উচ্চতা হবে ২ ফুট এবং মাটি হতে ঘরের উচ্চতা হবে ২ ফুট এবং মাটি হতে ঘরের মধ্যভাগের উচ্চতা হবে প্রায় ৬ ফুট।

পলিব্যাগে বীজ বপনঃ

বীজ বপনের জন্য ৮ x ১২ সেমি বা এর থেকে কিছুটা বড় আকারের পলিব্যাগ ব্যবহার করা যায়। পানি অপসারণের জন্য তলায় ২-৩টি ছিদ্র করতে হবে। প্রথমে অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। মাটিতে বীজ গজানোর জন্য প্রয়োজনীয় রস আছে কিনা তা নিশ্চিত করে পলিব্যাগে মাটি ভরাতে হবে। অতপর প্রতি ব্যাগে ২টি করে বীজ বুনতে হবে। বীজের আকারের দ্বিগুন মাটির গভীরে বীজ পুতে দিতে হবে।

বীজের সহজ অংকুরোদগম করার পদ্ধতিঃ

লাউয়ের বীজের খোসা কিছুটা শক্ত। তাই সহজ অংকুরোদগমের জন্য পরিষ্কার পানিতে ১৫-২০ ঘন্টা অথবা শতকরা ১ভাগ পটাশিয়াম নাইট্রেট দ্রবনে এক রাত্রি ভিজিয়ে অতপর পলিব্যাগে লাগাতে হবে।

বীজতলায় চারার পরিচর্যাঃ

চারার প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। বেশি শীতে বীজ গজানোর সমস্যা হয়। এ জন্য শীতকালে চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বীজ গজানোর পূর্ব পর্যন্ত প্রতি রাতে প্লাষ্টিক দিয়ে পলিব্যাগ ঢেকে হবে এবং দিনে খোলা রাখতে হবে।

চারার প্রয়োজন অনুসারে পানি দিতে হবে। সাবধান থাকতে হবে যাতে চারা গায়ে পানি না পড়ে। পলিব্যাগের মাটি চটা বাধলে কা ভেঙ্গে দিতে হবে। লাউয়ের চারা গাছে ‘’রেড পামকিন বিটল‘‘ নামে এক ধরনের লালচে পোকার ব্যাপক আক্রমন হয়। এটি দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে। চারার বয়স ১৬-১৭ দিন হলে তা মাঠে প্রস্তুত গর্তে লাগাতে হবে। চারা অবস্থায় অর্থাৎ বৃদ্বির প্রাথমিক পর্যায়ে কখনও কখনও রেড পাককিন বিটল এর আক্রমন হতে পারে। এটি দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

চারা রোপণের জন্য বেড তৈরি:

বেডের উচ্চতা হবে ৮-১০ ইঞ্চি। বেডের প্রস্থ হবে ৮ ফুট এবং লম্বায় সুবিধামত জমির দৈর্ঘ্য অনুসারে নিতে হবে। এভাবে পরপর বেড তৈরি করতে হবে। এরুপ পাশাপাশি দুইটি বেডের (১ম ও ২য় টির) মাঝখানে ২ ফুট প্রশস্থ সেচ নালা থাকবে এবং পরে (২য় ও ৩য় টির) দুবেডের মাঝখানে ১ ফুট প্রশস্থ শুধু নিকাশ নালা থাকবে।

মাদা তৈরি এবং বেডে মাদা হইতে মাদার দূরত্ব: মাদার ব্যাস ২০-২২ ইঞ্চি, গভীর ২০-২২ ইঞ্চি এবং তলদেশ ১৮-২০ ইঞ্চি হবে।

বেডের যে দিকে ২ ফুট প্রশস্থ সেচ নালা থাকবে সেদিকে বেডের কিনারা হইতে ২ ফুট বাদ দিয়ে মাদার কেন্দ্র ধরে ৬.৫ ফুট অন্তর অন্তর এক সারিতে মাদা তৈরি করতে হবে। একটি বেডের যে কিনারা থেকে ২ ফুট বাদ দেয়া হবে, উহার পার্শবর্তী বেডের ঠিক একই কিনারা থেকে ২ ফুট বাদ দিয়ে মাদার কেন্দ্র ধরে অনুরুপ নিয়মে মাদা করতে হবে।

লাউয়ের চারা রোপন এবং পরবর্তী পরিচর্যাঃ

চারাগুলো রোপনের আগের দিন বিকালে পানি দিয়ে মাটি ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। পরের দিন বিকালে চারা রোপন করতে হবে। মাদাগুলোর মাটি ভালোভাবে ওলট-পালট করে, এক কোপ দিয়ে চারা লাগানোর জন্য জায়গা করে নিতে হবে। চারার পলিব্যাগের ভাঁজ বরাবর ব্লেড দিয়ে কেটে পলিব্যাগ সরিয়ে মাটির দলাসহ চারাটি নির্দিষ্ট জায়গায় লাগিয়ে চারপাশে মাটি দিয়ে ভরাট করে দিতে হবে। চারা লাগানোর পর গর্তে পানি দিতে হবে। পলিব্যাগ সরানোর সময় এবং চারা রোপনের সময় সাবধানে থাকতে হবে যাতে মাটির দলা ভেঙ্গে চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। নতুবা শিকড়ের ক্ষতস্থান দিয়ে ঢলে পড়া রোগের জীবানু ঢুকবে এবং শিকড় ক্ষতিগ্রস্থ হলে গাছের বৃদ্ধি দেরীতে শুরু হবে।

সরাসরি মাদায় বীজ বপণের ক্ষেত্রে মাদায় প্রয়োজনীয় সার দেয়ার ৭-১০ দিন পর ৩-৪টি বীজ বপণ করতে হবে। গভীরতা হবে ১ ইঞ্চি। বীজ বপণের ৪-৫ দিনের মধ্যেই গজাবে, ১০-১৫ দিন পর মাদা প্রতি সুস্থ ২টি চারা রেখে বাকীগুলো তুলে ফেলতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ তথ্যসূত্রঃ কৃষি প্রযুক্তি হাত বই, বারি, গাজীপুর; কৃষি তথ্য সার্ভিস, ঢাকা এবং http://vcampus.co/blogs

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২১