অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যাঃ

বীজ বপনের ৭-১০ দিনের মধ্যে ৩০ সেমি. দূরত্বে একটি ভাল গাছ রেখে বাকি গাছ উঠিয়ে ফেলতে হবে। মাটিতে রস কম থাকলে বপনের ৭-১০ দিনের মধ্যেই একটি সেচ দিতে হয়। সাধারণত ২ সপ্তাহ পর পর ২-৩ বার সেচ দিলে মূলার ফলন ভাল হয়। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। এজন্য নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে মাটির চটা ভেঙ্গে দিতে হবে।

মূলার মূল ও পাতা কর্তন পদ্ধতিঃ

মূলার বয়স ৪০-৪৫ দিন হলে জমি থেকে সমস্ত মূলা উঠিয়ে জাতের বিশুদ্ধতা, আকৃতি ইত্যাদি বিবেচনা করে বাছাই করতে হবে। বাছাইকৃত মূলার মূলের এক চতুর্থাংশ এবং পাতার দুই তৃতীয়াংশ কেটে ফেলতে হবে। মূলের কাটা অংশ ডায়াথেন এম-৪৫ (প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম) এর দ্রবণে ডুবিয়ে নিতে হবে। পরে পূর্বে প্রস্তুত করা বেডে সারি পদ্ধতিতে ( ২ ফুট × ১.৫ ফুট) পাতা উন্মুক্ত রেখে সম্পূর্ণ মূলা গর্তে স্থাপন করে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে পুনরায় রোপণকৃত গাছ থেকে অধিক পরিমাণে বীজ পাওয়া যায়। বীজ ফসলের জমিতে সর্বদা রস থাকতে হবে। গাছে ফুল আসার পর শতক প্রতি ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৮০০ গ্রাম পটাশ সার বেডে ছিটিয়ে ভালভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় বীজ ফসল যাতে মাটিতে পড়ে না যায় সেজন্য ঠেকনা দিতে হবে। মূলার বীজ ফসলে জাব পোকা দেখা দেওয়া মাত্র ম্যালাথিয়ন গ্রুপের কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। বীজ বপনের পর ৪-৫ মাসের মধ্যেই বীজ সংগ্রহের উপযুক্ত হয়।

বোরণ সার প্রয়োগঃ

সূষম সারসহ মূলার প্রতি  শতক জমিতে ৪০ গ্রাম বরিক এসিড প্রয়োগ করলে বীজের ফলন বাড়ানো যায়।

তথ্য সূত্রঃ কৃষি প্রযুক্তি হাত বই (৬ষ্ঠ সংস্করণ), বারি, গাজীপুর।

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২১