[slider width=”100%” height=”100%” class=”” id=””]
[slide type=”image” link=”” linktarget=”_self” lightbox=”yes”]http://agrivisionbd.com/wp-content/uploads/2015/11/Jute-apion-5.jpg[/slide]
[slide type=”image” link=”” linktarget=”_self” lightbox=”yes”]http://agrivisionbd.com/wp-content/uploads/2016/03/jute-apion-3.jpg[/slide]
[slide type=”image” link=”” linktarget=”_self” lightbox=”yes”]http://agrivisionbd.com/wp-content/uploads/2015/11/jute-apion.jpeg[/slide]
[slide type=”image” link=”” linktarget=”_self” lightbox=”yes”]http://agrivisionbd.com/wp-content/uploads/2015/11/Jute-apion-1.jpg[/slide]
[slide type=”image” link=”” linktarget=”_self” lightbox=”yes”]http://agrivisionbd.com/wp-content/uploads/2015/11/Jute-apion-6.jpg[/slide]
[/slider]

পোকা ও ক্ষতির প্রকৃতিঃ

পাটের কান্ডের উইভিলের আরো দুটি নাম হলো জুট এপিওন (Apion corchori) এবং চেলে পোকা। এটি একটি মারাত্নক ক্ষতিকর পোকা। পূর্ণবয়স্ক পোকা ২০৯ দিন বেঁচে থাকে।বৈশাখের প্রথমদিকে চারা পাটগাছে  পূর্ণ বয়স্ক চেলে পোকা এক রকম ছোট কালো রং এর শুড় বিশিষ্ট পোকা।অগ্রবক্ষ লম্বা চওড়ায় সমান এবং পিছনের দিক গোলাকৃতির। সদ্যজাত কীড়া (গ্রাব) সাদা রঙের এদের কোন পা নেই দেখতে “c” এর মত বাঁকা পুর্ণাঙ্গ কীড়ার দীর্ঘ ৩ মিমিঃ এবং প্রস্থ ১মিমিঃ। পাটের চারা অবস্থায় পূর্ণবয়স্ক ও কীড়া উভয় পোকাই আক্রমণ করে। স্ত্রী পোকা তার শুড় দ্বারা গাছের ডগা, পর্বে বা গিটে ছিদ্র করে ডিম পারে। মাঠে যখন পাটের চারা ৫ ইঞ্চির মত লম্বা হয় তখন থেকে চেলে পেকার আক্রমন শুরু হয় পাট গাছের চারা আবস্থায় চেলে পোকা আলপিনের ছিদ্রের মতো করে পাতা খায়। তারপর ডিম পারার জন্য স্ত্রী পোকা চারাগাছের কচি ডগায় আক্রমণ করে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়ে ডগার ভিতর চলে যায় এবং সেখানেই বড় হতে থাকে। ফলে গাছের ডগা মারা যায় ও শাখা-প্রশাখা বের হয়। গাছ যখন বাড়তে থাকে তখন চেলে পোকা পাট গাছের গিড়ায় ছাল ভেদ করে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়া বের হয় এবং এগুলো গাছের মজ্জাতে প্রবেশ করে বড় হতে থাকে। সাধারণত ১০-১৩ দিন পর গ্রাব পিউপেশনে যায়। কান্ডের ভিতরেই পিউপেশন ঘটে এবং ৪ দিন স্থায়ী হয়। এদের ৬ টি জেনেরেশন রয়েছে। আগাম বৃষ্টিপাত ও আগাম বীজ বপনের ফলে এ পোকার আক্রমণ বেশী হয়। আক্রান্ত স্থান থেকে এক প্রকার আঠা বের হয়ে আসে এবং কীড়ার মলের সাথে শক্ত গিটের সৃষ্টি করে, পাট পঁচানোর সময় সেই গিট পচে না। এই গিটযুক্ত আঁশ বাজারে নিম্ন শ্রেণীর বলে বিবেচিত হয় এবং আশেঁর মান ক্ষুন্ন হয়। ফলে দামও কম পাওয়া যায়।

আক্রমণের পূর্বে করণীয়ঃ 

১. নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে আক্রমণের শুরুতেই ব্যবস্থা নিতে হবে;

২. জমি পরিষ্কার পরিছন্ন এবং বনকওড়া ও অন্যান্য আগাছা ও আর্বজনামুক্ত রাখতে হবে।

আক্রমণের পর করণীয়ঃ

১. পাট মৌসুমের প্রথমে ডগা আক্রান্ত চারাগুলো তুলে ফেললে পরবর্তীতে এদের আক্রমন কমে যায়।
২. গাছের উচ্চতা ১২-১৪ সেন্টিমিটার লম্বা হওয়ার পর আক্রমণ বেশী হলে (৫% আক্রান্ত গাছ ও গাছ প্রতি একটি ছিদ্র) অনুমোদিত মাত্রায় কীটনাশ প্রয়োগ করতে হবে। এক মৌসুমে তিনবার ঔষধ ছিটিয়ে প্রায় সম্পূর্ণরূপে পোকা দমন করা যায়।

** হেজিনন ৬০ ইসি @ ১.৫ মিলি/লি. অথবা সিমবুশ ১০ ইসি @ ০.৫ মিলি/লি. হারে পানিতে মিশিয়ে গাছে ভালভাবে স্প্রে করা যেতে পারে অথবা

** মেটাসিসটক্স আর ৫০% ইসি, ডায়াজিনন ৬০% ইসি ও নুভাক্রণ ৪০% ইসি প্রতি লিটারে ১.৫ মিলি অর্থাৎ ১২ লিটার পানির সাথে ১৮ মিলি বা চা চামচের সাড়ে তিন চামচ ( ১ চা চামচ = ৫ মিলি) ক্ষেতে ছিটালে ভাল ফল পাওয়া যয়; অথবা

** সাইপার মেথ্রিন/মার্শাল @ ১০ মিলি./১০ লিটার পানি ৫ শতাংশ জমিতে প্রয়োগ করতে হবে।

৩. পাটার কাটার পর অবশিষ্টাংশ ন্ষ্ট করে ফেলতে হবে এবং ৩ দিনের বেশী স্তুপ অবস্থায় রাখা যাবে না। 

তথ্যসূত্রঃ ১। পাট, কেনাফ ও মেস্তা ফসলের পোকা-মাকড়, মাইট ও ব্যবস্থাপনা, বিজেআরআই, ঢাকা

            ২। কৃষি তথ্য ভান্ডার এবং Farmer’s Window

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২১