আগাছা দমনঃ ধানের চারা রোপণের ১৫ দিন পর হাত দ্ধারা ১ম বার আগাছা দমন করতে হয়, এরপর প্রতিবার ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের পর আগাছাপরিষ্কার করতে হয়। আগাছানাশক দ্ধারা আগাছা পরিষ্কার করা গেলেও তা মাটির জন্য ভাল পদ্ধতি নয়।

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ বিভিন্ন পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করা যায়। সেগুলোর মধ্যে ভাসানো সেচ, এডাব্লিউডি (পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো পদ্ধতি), ফিতা পাইপ, আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ পদ্ধতি ইত্যাদি।

অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলার যত্নঃ

শৈত্য প্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিলে, বীজতলার পানি সকালে বের কের দিয়ে আবার নতুন পানি দিলে, প্রতিদিন সকালে চারা্র উপর জমাকৃত শিশির ঝরিয়ে দিলে চারা ঠান্ডার  প্রকোপ থেকে রক্ষা পায় এবং স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে।

ধানে অতিরিক্ত চিটা হওয়ার কারন ও প্রতিকারঃ

স্বাভাবিকভাবে ধানে শতকরা ১৫-২০ ভাগ চিটা হয়। চিটার পরিমান এর চেয়ে বেশি হলে ধরে নিতে হবে থোড় থেকে ফুল ফোটা এবং ধান পাকার আগ পর্যন্ত ফসল কোন না কোন প্রতিকূলতার শিকার হয়েছে, যেমন- অসহনীয় ঠান্ডা বা গরম, খরা বা অতিবৃষ্টি, ঝড়, পোকা ও রোগবালাই।

ঠান্ডাঃ
বাতাসের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের নিচে নেমে গেলে ফুলের পুংকেশরের বিকাশ বিঘ্নিত হয়। তাই গর্ভধারন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে না পেরে চিটা হয়ে যায়। কোন কোন সময় ডিগপাতার খোল থেকে শিষ সম্পূর্ন বের হতে পারে না। এভাবে বহু ধান অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যায়।

গরমঃ
ধানের জন্য অসহ্য গরম তাপমাত্রা হলো ৩৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। ফুল ফোটার সময় ১-২ ঘন্টা উক্ত তাপমাত্রা বিরাজ করলে মাত্রাতিরিক্ত চিটা হয়ে যায়।

ঝড়ো বাতাসঃ
প্রচন্ড ঝড়ো বাতাসের কারনে গাছ থেকে পানি প্রশ্বেদন প্রক্রিয়ায় বেরিয়ে যায়। এতে ফুলের অঙ্গ সমূহের গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। আবার ঝড়ো বাতাসে পরাগায়ন, গর্ভধারন ও ধানের মধ্যে চালের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এতে ধানের সবুজ খোসা খয়েরি বা কালো রং ধারন করে। ফলে ধান চিটা হয়ে যেতে পারে।

খরাঃ
খরার কারনে শিষের শাখা বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বিকৃত ও বন্ধ্যা (স্টেরাইল) ধানের জন্ম দেয়ায় চিটা হয়ে যায়।

প্রতিকারের উপায়ঃ
ফসল চক্রে নেমে আসা প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিহত করা কঠিন। কিন্তু বোরো ধান অগ্রহায়নের শুরুতে এবং রোপা আমন ধান শ্রাবনের শুরুতে বীজ বপন করলে ধানের থোড় এবং ফুল ফোটা অসহনীয় নিম্ন বা উচ্চ তাপমাত্রায় পড়ে না, ফলে ঠান্ডা ও গরম এমনকি ঝড়ো বাতাসজনিত ক্ষতি থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।

সূত্র: আধুনিক ধানের চাষ (২০১৫), ব্রি, গাজীপুর

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২১