সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা: 

শুকনো মৌসুমে আনারস ক্ষেতে সেচ দেওয়া দরকার। তাছাড়া বর্ষাকালে যাতে অতিরিক্ত পানি না জমে সে ব্যবস্থা করতে হবে।  চারা বেশি লম্বা হলে ১ ফুট পরিমান রেখে আগার পাতা সমান করে কেটে দিতে হবে। আগাছা আনারসের খুবই ক্ষতি করে। বছরে অন-তঃ দু’বার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে; একবার আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফল সংগ্রহ করার পর ও দ্বিতীয় বার অক্টোবর-নভেম্বর মাসে। জমিতে সেচ প্রদান এবং সার প্রয়োগের পর মালচিং করে নিলে জমি আগাছা মুক্ত থাকে। আগাছা দিয়ে মালচিং করার পর একসময় পচে জৈব সার হিসেবে মাটিতে যুক্ত হয় এবং এতে করে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মুড়ি ফসল:

আনারস চাষে অন্যান্য লাভের সাথে আরেকটি লাভ মুড়ি ফসল। মুড়িগাছ একাধিক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবং ফল ধরে। সাধারণত: মুড়ি ফসল থেকে ৫ থেকে ৬ বছর সফলভাবে ফল সংগ্রহ করা যায়। ঘোড়াশাল জাতের বেলায় কাপাসিয়া এলাকায় ৪০ থেকে ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুড়ি ফসল থেকে ফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে আগাছা পরিষ্কার, শূন্যস্থান পূরণ, সার প্রয়োগ, বালাই ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

আনারসের সাথে সাথী ফসল চাষ:

আনারসের সাথে অনায়াসে আদা, সয়াবিন, সরিষা, কলাই, কচু ইত্যাদি সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।

পাহাড়ী এলাকায় আনারস চাষ: 

পাহাড়ী এলাকায় সাধারণত: ট্যারেসিং বা কন্টুর পদ্ধতিতে (২ ফুট গভীর ও ১ ফুট প্রস্ত) চাষ করা ভালো। পাহাড়ী এলাকায় জমি তৈরিতে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । কেনো না বেশি নাড়াচাড়া করলে ভূমি ক্ষয় হয়ে যাবে।

হরমোন প্রয়োগে সারাবছর আনারস উৎপদান প্রযুক্তিঃ

বাংলাদেশের বেশিরভাগ আনারস মধ্য জৈষ্ঠ্য থেকে মধ্য ভাদ্র (জুন-আগস্ট) মাসে আহরিত হয়। কিন্তু এ সময় অন্যান্য ফলের মৌসুম হওয়ায় দাম কম থাকে। কিন্তু অমৌসুমে উৎপাদন না থাকায় দাম বেড়ে যায়। হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে সারাবছর আনারস উৎপাদন সম্ভব। তাছাড়া জমির সব গাছে এক্ সঙ্গে ফুল/ফল না আসায় জমি অনেকদিন আটকে থাকে। হরমোন প্রয়োগ করলে একসাথে সকল গাছে ফুল আসে। হানিকুইন একটি রপ্তানীযোগ্য ফল। সাধারনত ক্রেতাদের নিকট ০.৫ কেজি থেকে ১ কেজি ওজনের আনারসের চাহিদা বেশী। চারা ৯ মাস বয়স বা ২২ পাতা পর্যায়ে হরমোন প্রয়োগ করলে আনারসের ওজন হবে আধা কেজি। আবার আনারসের ১৩ মাস বা ২৮ পাতা পর্যায়ে হরমোন প্রয়োগ করলে ওজন হবে ১ কেজি।

হরমোন প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

চারা রোপণের ৯-১৩ মাস পর প্রতি মাসে বৃষ্টিহীন দিনে ক্রমানুসারে ইথ্রেল ৫০০ পিপিএম বা ক্যালসিয়াম কার্বাইড ১০০০০ পিপিএম বা ১% দ্রবন প্রতি গাছে ৫০ মিলি হারে সকালে গাছের কান্ডে ঢেলে দিতে হবে। হরমোন প্রয়োগের ২৪ ঘন্টার মধ্যে বৃষ্টি হলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। সারাবছর আনারস পেতে হলে প্রতি মাসেই ব্লক তৈরী করে একেক টা ব্লকে চারা রোপণ করতে হবে । অথবা একবার রোপণ করে ৩-৪ টি ব্লকে ভাগ করে প্রতি মাসে হরমোন প্রয়োগ করা যেতে পারে। হরমোন প্রয়োগের ২০-৪০ দিন পর গাছে ফুল আসে এবং ৫-৬ মাস পর ফল আহরণ করা যায়।

মুকুট ব্যবস্থাপনাঃ

ফলের মুকুট থাকা আবশ্যক কিন্তু বড় মুকুট রপ্তানীর ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। ফুল আসার ৬৫-৭৫ দিন পর মুকুটের কেন্দ্রীয় মেরিস্টেম লোহার তৈরী অগারের সাহায়্যে অপসারণ করা হলে ফলের বৃদ্ধি না কমিয়ে মুকুট ক্ষুদ্র থাকবে।

Small Mukut 2

উৎসঃ কৃষি প্রযুক্তি হাত বই (৬ষ্ঠ সংস্করণ), বারি, গাজীপুর এবং http://ais.gov.bd

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২১