আমাদের দেশে Annonaceae পরিবারের দুই প্রজাতির ফল দেখতে পাওয়া যায়। একটির চামড়ায় গুটি গুটি চোখ আছে, যেটি শরিফা নামে পরিচিত। শরিফার ইংরেজি নাম Sugar apple এবং বৈজ্ঞানিক নাম Annona squamosa. পরিচিত ও চাহিদাসম্পন্ন এই ফলটি এখন আর আগের মতো তেমন চোখে পড়ে না। এ পরিবারের অন্য ফলের চামড়া মসৃণ ও নোনতা যা আতা বা নোনা ফল নামে পরিচিত। 

শরিফার ভিতরে থাকে ছোট ছোট কোষ। প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকে একটি করে বীজ, বীজকে ঘিরে থাকা নরম ও রসালো অংশই খেতে হয়। পাকা ফলের বীজ কালো এবং কাঁচা ফলের বীজ সাদা।

শরিফা গাছ বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। গাছের আকার খুব বড় নয়। উচ্চতায় ১০ ফুট থেকে ১৭ ফুট হয়ে থাকে।

শীতকালে এর পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তকালে নতুন পাতা গজায়, ফুল ধরে। পাতার আকৃতি বল্লমের মতো, অগ্রভাগ সরু। এর ফুল দেখতে কাঁঠালী চাঁপার মতো যার রঙ হালকা সবুজ থেকে সবুজাভ হলুদ হয়ে থাকে। কাঁচা ফল খাওয়া যায় না। 

এলাকা ভেদে ফল গোলাকার, ডিম্বাকার ও হৃদপিণ্ডাকার হয়। সাধারণত একটি ফলের ওজন ১০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। খাবারযোগ্য শাঁস বা পাল্পের পরিমাণ ফলের মোট ওজনের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। শাঁসের রঙ সাদা ও ক্রিম ধরনের। শাঁস মিষ্টি ও সুস্বাদু। এতে চিনির মত মিহি দানা থাকে। ফলের টিএসএস ১৮ থেকে ২৪% হয়ে থাকে। ফলের আকার ও প্রকার ভেদে কোষের সংখ্যা ১৯ থেকে ৫৪টি হয়। বীজ কালো, শক্ত এবং প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত এর অংকুরোদগম ক্ষমতা বজায় থাকে।

এতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য উপাদান রয়েছে। পাকা ফলের শাঁস মিষ্টি হয়ে থাকে। খাওয়ার সময় জিভে চিনির মতো মিহি দানা দানা লাগে। এর কিছু ভেষজ গুণ রয়েছে। যেমন পাকা শরিফার শাঁস বলকারক, বাত-পিত্তনাশক ও বমনরোধক।

তথ্যসূত্রঃ baisc.wordpress.com, www.businesstimes24.com/ এবং www.jugantor.com

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২১