বংশবিস্তারঃ

যৌন (বীজ) এবং অযৌন/অঙ্গজ (জোড় কলম ও গুটি কলম) উপায়ে বংশ বিস্তার করা যায়। তবে আমাদের দেশে বর্তমানের তেঁতুলের যে চারা নার্সারীতে পাওয়া যায় তা মূলত বীজের চারা। তবে বীজ থেকে উৎপাদিত চারায় মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকে না। মাতৃগাছের অনুরুপ ফলের গুণাগুণ পেতে হলে অঙ্গজ বংশ বিস্তারের বিকল্প নেই।

গুটি কলমঃ

মে-জুন মাসে গাছে গুটি কলম বাঁধা হয়। এর ২-৩ মাস পরে যখন গুটি কলমগুলো সফলভাবে মূল উৎপাদন করে তা দেখে মাতৃগাছ থেকে কলম আলাদা করে পরিলব্যাগে স্থানান্তর করে নার্সারীতে রাখা হয়। পরবর্তীকালে চারাগুলো মাঠে লাগানো হয়। মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন গাছ ও দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য গুটি কলম একটি সহজ পদ্ধতি। 

গ্রাফটিংঃ

ক্লেফট গ্রাফটিং এর মাধ্যমেও তেঁতুলের চারা কলম তৈরি করা যায়। এক্ষেত্রে তেঁতুলের বীজ থেকে চারা উৎপন্ন করে সে চারার বয়স যখন ৯-১২ মাস হয় তখন উন্নত ও রোগমুক্ত ফলের কাংখিত মাতৃগাছ থেকে এক বছর বয়স্ক সায়ন সংগ্রহ করে ক্লেফট গ্রাফটিং এর মাধ্যমে চারা তৈরি করা হয়। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ক্লেফট গ্রাফটিং এ সফলতার হার বেশি।

সেচ ও নিষ্কাশনঃ

চারা রোপণের পর ঝরণা দিয়ে বেশ কিছু দিন পর্যন্ত সেচ দিতে হবে। সর্বোচ্চ ফলনের জন্য ফুল আসা ও ফলের বিকাশের সময় মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা আবশ্যক। এ জন্য খরা মৌসুমে সেচ দেয়া প্রয়োজন।

ডাল ছাঁটাইকরণঃ

সুন্দর কাঠামোর জন্য গাছের গোড়া থেকে ৫ ফুট খেবে সাড়ে ৬ ফুট পর্যন্ত কোন ডালপালা রাখা চলবে না। যেহেতু নতুন শাখায় বেশি ফুল ও ফল উৎপন্ন হয় তাই প্রতি বছর নিয়মিত কিছু শাখা প্রশাখা কেটে দিলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। শীতকালই ডাল ছাটাইকরণের উপযুক্ত সময়। মাঝে মাঝে পুরাতন ও মরা ডাল কেটে দিতে হয়। 

তথ্যসূত্রঃ কৃষি প্রযুক্তি হাত বই

Print Friendly, PDF & Email

সর্বশেষ আপডেট : ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২১