পেঁয়াজ সংগ্রহ ও পরবর্তী করণীয়

পেঁয়াজ সংগ্রহ ও পরবর্তী করণীয়২০১৫-১০-০৪T০৫:৩১:৪৪+০৬:০০

Project Description

পেঁয়াজ সংগ্রহ ও পরবর্তী করণীয়

 

পেঁয়াজের কর্তন উপযোগী সময়ঃ

  • পেঁয়াজ পরিপক্ক হলে পাতা ত্রুমশ হলদে হয়ে যায় এবং পাতার অগ্রভাগ শুকিয়ে নুইয়ে পড়ে। যখন ৭০-৮০% পাতার অগ্রভাগ শুকিয়ে নেতিয়ে পড়ে তখনই পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত সময়।
  • সাধারণত রোপনের ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে শীতকালিন পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়।
  • গ্রীষ্মকালিন পাকা পেঁয়াজ বেশি দিন জমিতে থাকলে এর ঝাঝ কমে যায়।
  • গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজ আগাম চাষের ক্ষেত্রে রোপনের ৬০-৭০ দিন এবং নাবি চাষের চারা রোপনের ৯৫-১১০ দিন দরকার হয়।

পেঁয়াজ সংগ্রহঃ

  • ভালভাবে পরিপক্কতার পর উজ্জুল রৌদ্রযুক্ত দিনে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে, পাতা ও শিকড় কেটে ৫-৭ দিন বায়ু চলাচলে সুবিধাযুক্ত শীতল ও ছায়াযুক্ত স্হানে শুকিয়ে নিতে হয়।
  • ভাল কন্দগুলো যথাযথভাবে বাছাই করে শুষ্ক, ঠান্ডা ও বায়ু চলাচলের উপযুক্ত জায়গায় বাঁশের মাচা তৈরি করে ৩-৪ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এ ছাড়া ঘরের সিলিং প্লাষ্টিক বা বাঁশেরর্ যাক অথবা ঘরের পাকা মেঝেতে রেখে সংরক্ষণ করা যায়।
  • গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজে পানির পরিমাণ বেশি থাকে বিধায় শীতকালিন পেঁয়াজের তুলনায় সংরক্ষণ ক্ষমতা কম। উল্লেখ্য যে, ছোট কন্দ বিশিষ্ট পেঁয়াজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়।

পেঁয়াজ সংগ্রহে বিবেচ্য বিষয়ঃ

  • পেঁয়াজ উত্তোলনের তিন সপ্তাহ আগে অবশ্যই সেচ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • আবহাওয়া যখন শুষ্ক থাকে তখন পেঁয়াজ সংগ্রহ করতে হবে।
  • বৃষ্টির সময় পেঁয়াজ সংগ্রহ করা ঠিক নয়। এতে সংরÿণকালে রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • সংগ্রহের সময় পেঁয়াজ যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • পেঁয়াজের ওপরের অংশে এক ইঞ্চি পরিমাণ এবং শিকড়ের দিকে সিকি ইঞ্চি পরিমাণ রেখে ধারাল কাস্তে বা বঁটি দিয়ে কেটে দিতে হবে।

পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিবেচ্য বিষয়ঃ

  • সঠিক সময়ে পেঁয়াজ তুলতে হবে
  • পেঁয়াজ তোলার পর ৮-১০ দিন ছায়ায় ভাল করে শুকিয়ে নিতে হবে
  • খারাপ বা পাকা পেঁয়াজ সরিয়ে ফেলতে হবে
  • যে জায়গায় পেঁয়াজ রাখা হবে সেখানে বায়ু চলাচলের সুবন্দোবস্ত থাকতে হবে
  • বাণিজ্যিকভাবে ২২.৫ সে.মি. পুরুত্বে বাঁশের তৈরী সিলিং এ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে সংরক্ষণ অপচয় কম হয়
  • বসত বাড়ীতে পারিবারিক ব্যবহারের জন্য ৪৫ঢ৪৫ঢ১০০সে.মি. মাপের বাঁশের তৈরীর্ যাকে ১৫ সে.মি. পুরুত্বে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে তুলনামূলক ভাবে অপচয় কম হয়
  • হিমাগারে ১০ থেকে ২০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এবং শতকরা ৬০-৭০ ভাগ আপেক্ষিত্ব আর্দ্রতায় পেঁয়াজ অনেক দিন গুদামজাত করে রাখা যায়।

পেঁয়াজে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণঃ

  • পেঁয়াজের বীজ পরিণত হলে ফুলের মুখ ফেটে যায় এবং কালো বীজ দেখা যায়।
  • শতকরা ২০-২৫ ভাগ ফুলের মুখ ফেটে গেলে বীজ সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
  • একই সময়ে পেঁয়াজের সব ফুলদন্ডের বীজ পরিণত হয় না।
  • একটি জমি হতে ২-৩ বারে সম্পূর্ণ বীজ সংগ্রহ করা যায়।
  • বীজ স্তবকের ঠিক নিচ থেকে সাবধানে সামান্য বোটাসহ কেটে নিতে
    হয়।
  • কয়েকদিন রৌদে শুকানোর পর হালভাবে ঘষে খোসা ছাড়িয়ে বীজ বের করে পরিষ্কার করতে হয়।
  • এই পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টর জমিতে ৬০০-১২০০ কেজি পর্যন্ত বীজ উৎপাদন করা যায়।
  • বীজের আর্দ্রতা শতকরা ৬-৮ ভাগ হওয়া বাঞ্চনীয়।

পেঁয়াজ সংরক্ষণের কৌশলঃ

  • আমাদের দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের শতকরা ৯০ ভাগই দেশীয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায়। উৎপাদিত পেঁয়াজের এক বৃহৎ অংশ সঠিক সংগ্রহোত্তর ব্যবস্হাপনা ও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই আমাদের অবশই সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।
  • পেঁয়াজ গাছ পরিপক্ব হলে এর গলার দিকের টিস্যু নরম হয়ে যায়। ফলে পাতা হেলে পড়ে। যখন শতকরা ৭০-৮০ ভাগ পাতার অগ্রভাগ শুকিয়ে নেতিয়ে বা ভেঙ্গে পড়ে, ঠিক তখনই পেঁয়াজ সংগ্রহের উপযুক্ত
  • শীতকালীন পেঁয়াজ বারি পেঁয়াজ-১ এর ক্ষেত্রে বীজ বোনা থেকে ফসল সংগ্রহ করতে ১৩০-১৪০ দিন সময় দরকার।
  • গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ যেমনঃ বারি পেঁয়াজ-২, বারি পেঁয়াজ-৩ এর ক্ষেত্রে ৯০-১০৫ দিন সময় দরকার।
  • টিনের ঘরের সিলিচয়ে পেঁয়াজ রাখলে তা ২০-২৫ সেন্টিমিটারের বেশি পুরু না করে না রাখাই ভালো।
  • মেঝের দুই ফুট ওপরে নির্মিত মাচায় পেঁয়াজ রাখলে তাতে সর্বোচ্চ ১০-১৫ সেমি পুরু করে পেঁয়াজ রাখতে হবে।
  • কিছুদিনের জন্য পাতলা বুনটের চটের বস্তায় বা পস্নাস্টিকের নেটের ব্যাগে পুরে সারিবদ্ধভাবে খামাল দিয়েও পেঁয়াজ সংরÿণ করা যায়।
  • মাঝে মধ্যে সংরÿিত পেঁয়াজ নাড়াচাড়া করে দিতে হবে এবং পচা পেঁয়াজ বেছে সরিয়ে ফেলতে হবে।
  • এ ছাড়া হিমাগারে শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ আর্দ্রতায় পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরÿণ করা যায়। আমাদের দেশে অনেক দিন পেঁয়াজ সংরÿণ করা হলে তা থেকে চারা বের হওয়ার সমস্যা দেখা যায়।
  • এ সমস্যা সমাধানের জন্য পেঁয়াজ সংগ্রহের দুই সপ্তাহ আগে পেঁয়াজ যখন পুষ্ট হয় এবং ওপরের শতকরা ৫০ ভাগ পাতা যখন নেতিয়ে পড়ে তখন ২০০০ পিপিএম মাত্রায় ম্যালিক হাইড্রাজাইড প্রয়োগ করতে হবে।

ফলনঃ

  • শীতকালিন পেঁয়াজ বিঘা প্রতি ১৬০০-২০০০ কেজি ফলন দিয়ে থাকে।
  • গ্রীষ্মকালিন আগাম পেঁয়াজ প্রতি বিঘায় ২৪০০-৩২০০ কেজি এবং
  • গ্রীষ্মকালিন নাবি পেঁয়াজ প্রতি বিঘায় ৪০০০-৪৭০০ কেজি ফলন দিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্রঃ শাহানা আকতার, সিএসও, আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, জয়দেবপুর, গাজীপুর

Print Friendly, PDF & Email

Project Details

Categories:

Go to Top